Remote Jobs Preparation - Negotiation

Remote Jobs Preparation - Negotiation

নেগোসিয়েশন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্কিল যা সবার রপ্ত করা উচিৎ

HM Nayem's photo
HM Nayem
·Jul 19, 2022·

4 min read

Subscribe to our newsletter and never miss any upcoming articles

Remote Jobs - Negotiation

টেকনিক্যাল স্কিলের পাশাপাশি সবারই অনেক গুলো সফটস্কিলের দরকার হয়। তার মধ্যে অন্যতম একটা সফটস্কিল আমি মনে করি নেগোসিয়েশন করার স্কিল বা দক্ষতা। আমি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে অনেক দক্ষ মানুষকে নিজের প্রাপ্য চাইতে লজ্জা পেতে দেখেছি। দেখেছি কিভাবে শুধু মাত্র মুখ ফুটে নিজের প্রাপ্য না চাইতে পারার কারণে নিজেকে ঠকাচ্ছে প্রতিটা পদে পদে। আমার জবের কারণেই প্রতিনিয়ত প্রচুর মানুষের সিভি, প্রোফাইল, চাহিদা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়। ওয়ার্ল্ড ক্লাস যোগ্যতা থাকার পরেও আমি কিছু মানুষকে দেখেছি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে লোকাল স্যালারি এর ডিমান্ড করতে। আবার এও দেখেছি যে যথেষ্ট টেকনিক্যাল নলেজ না থাকার পরেও ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্যালারি ডিমান্ড করতে। শুধু ডিমান্ড করতে দেখেছি তাই নয়, সেই স্যালারিতে হায়ার্ডও হতে দেখেছি। আপনাকে বিশ্বাস করতেই হবে তাদের টেকনিক্যাল নলেজ কম থাকলেও নেগোসিয়েশনের মতো সফটস্কিলের কোনো কমতি নেই।

নেগোসিয়েশন মানে অন্যকে ঠকানো নয়। নেগোসিয়েশন মানে এমন একটা রেট ফিক্সড করা যাতে করে আপনিও খুশি আবার যার সাথে নেগোসিয়েশন করছেন সেও খুশি। সহজ কথায় একটা উইন উইন সিচুয়েশন তৈরি করা। আমরা ছোট বেলা থেকে সব জায়গায় নেগোসিয়েশন করে আসছি। এই নেগোসিয়েশনের কাজে বাড়ির মহিলারা খুবই দক্ষ। দোকানদার ১০০০ টাকা দাম চাওলেও তারা যেন কিভাবে সেই একই প্রোডাক্ট ১৫০ টাকা দিয়ে নিয়ে চলে আসতে পারে। দোকানদার ১৫০ টাকায় প্রোডাক্ট সেল করার পরেও প্রফিট করেছে। তাহলে বুঝেন নেগোসিয়েশনের গুরুত্ব কত বেশি।

নেগোসিয়েশন সব জায়গাতেই আছে। ফ্রিল্যান্সিং, চাকুরি, ব্যবসা সব জায়গাতেই আমাদের কম বেশি নেগোসিয়েশন করতে হয়। দেশের ভেতরে যখন আমরা কাজ করি তখন এই নেগোসিয়েশনটা খুব বেশি কষ্টকর হয় না। কোনো ক্ষেত্রে যদি ঠকেও যায় তারপরেও খুব বেশি পরিমাণ ঠকে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দুইজনই একই দেশের আর ট্রেডটা হচ্ছেও একই কারেন্সিতে। সমস্যা হচ্ছে যখন আপনি দেশের বর্ডার ক্রস করে অন্য কোনো পশ্চিমা দেশের জন্য কাজ করবেন বা নিজের সার্ভিস বিক্রি করবেন। সহজ কথায় চাকুরি করবেন বা ফ্রিল্যান্সিং করবেন।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমি দেখেছি যখন কেউ ফ্রিল্যান্সিং করে বা রিমোট জব করে তখন তার উপার্জনকে টাকাতে কনভার্ট করে হিসেব করে। যার ফলে তুলনা মূলক ভাবে লস করার পরেও তার সেই উপলব্ধিটা হয় না। স্বাভাবিক ভাবেই কেউ ১ হাজার ডলার উপার্জন করলে আজকে বাংলাদেশি টাকা হিসেবে প্রায় সে ১ লক্ষ টাকা উপার্জন করছে। লোকাল মার্কেটের বিবেচনায় অর্থটা মোটেও খারাপ নয়। কিন্তু আমি বলবো তারপরেও আপনি হয়তো লস করছেন। কারণ আপনি হয়তো অনেক টাকা উপার্জন করছেন কিন্তু আপনার ইমপ্লয়ার কিন্তু খুব বেশি টাকা খরচ করছে না, এমনকি তাদের হিসেবে একটা লেবারের মূল্যও আপনাকে দিচ্ছে না।

কেন লস করছেন সেই বিষয়টা বোঝার জন্য আপনাকে আগে বুঝতে হবে কেন একটা পশ্চিমা কোম্পানি আপনাকে হায়ার করছে। তাদের দেশে কি ট্যালেন্টের সংকট পরে গেছে? নাকি তাদের দেশে এই ধরনের কাজ করার মানুষের অভাব পরেছে? আমার মতে প্রধানত দুইটা কারণে একটা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি রিমোট জব বা ফ্রিল্যান্সিং জব অফার করে। প্রথম কারণটা খুব সিম্পল - তারা কিছু টাকা বাঁচাতে চাই। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে তারা তাদের আশেপাশে তাদের অফার করা স্যালারিতে দক্ষ কাউকে পাচ্ছে না। তৃতীয় আরেকটা সম্ভাব্য কারণ হতে পারে কোম্পানিটি সারা বিশ্বের ট্যালেন্টকে নিজের কাছে রাখতে চায় যেন তারা সর্বদায় কম্পিটিটরদের থেকে এগিয়ে থাকে। এই কারণটা অবশ্য শুধু টেক জায়ান্ট কোম্পানিদের জন্যই প্রযোজ্য।

প্রতিটা দেশের প্রতিটা জবের ক্ষেত্রেই একটা স্যালারি স্ট্রাকচার আছে। সঠিক ভাবে নেগোশিয়েট করার ক্ষেত্রে সেই স্যালারি স্ট্রাকচারটা বুঝতে পারা খুবই প্রয়োজন। কিছু কিছু বড় রিমোট কোম্পানি আছে যারা প্রতিটা জবের জন্যই তাদের স্ট্রাকচার ফলো করে। গরীব রাষ্ট্র থেকে জয়েন করছে বলে তাকে কম স্যালারি অফার করার মানুষিকতা রাখে না। সেই সব কোম্পানিতে কাজ করা সহজ, খুব বেশি নেগোসিয়েশনের ঝামেলাতে পরতে হয় না। কিছু কোম্পানি আছে তারা কম দিবে কিন্তু ফিক্সড, তাদের বাজেটের বাইরে বেরই হবে না। এরাও এক হিসেবে ভালো, কারণ আপনি আগেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন যেই এই স্যালারিতে আপনি জবটা করবেন কি না, অথবা প্রজেক্টটা নিবেন কি না। কিন্তু কিছু কোম্পানি আছে যারা আপনার কাছে জানতে চাইবে আপনার চাহিদা। সমস্যাটা আসলে এদের ক্ষেত্রেই বেশি। আর ভুলটা সবাই এখানেই করে।

আপনি যদি নিজেকে খুব দক্ষ মনে করেন, সেই ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্যালারি আপনি দাবি করতেই পারেন। তাতে কোনো বাঁধা নেই, বাকিটা তাদের রেস্পন্সের ওপরে নির্ভর করছে। কিন্তু আপনার যদি সেই কনফিডেন্স না থাকে তাহলে আপনাকে কোম্পানি সম্পর্কে কিছুটা রিসার্স করতে হবে। কোম্পানি যেই দেশে অবস্থিত সেই দেশের স্যালারি স্ট্রাকচার সম্পর্কে রিসার্স করতে হবে। তারপরে সেই দেশের স্যালারি স্ট্রাকচারে আপনার মতো দক্ষ একজন মানুষের যত স্যালারি হওয়া উচিৎ তার থেকে কিছুটা কম স্যালারি ডিমান্ড করতে হবে। যেন তাদের নাগালের মধ্যে থাকে এবং তারা নিজেরা যে কিছুটা প্রফিটেবল হচ্ছে সেটা বোঝা যায়। এস্টেব্লিশড কোম্পানি গুলোর ক্ষেত্রে অবশ্য এসব ম্যাটার করে না।

একটা কথা মাথায় রাখবেন, আপনি যদি নিজের কাজের সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারেন তাহলে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি আপনাকে মূল্যায়ন করবে না। যেখানে চাওয়ার দরকার ৫ হাজার ডলার সেখানে ৫০০ ডলার চাইলে আপনার লেভেল তারা অটোমেটিক জাজ করে নিবে সে আপনি যতই দক্ষ হয়ে থাকেন না কেন। নেগোসিয়েশন একটা অন্য রকম সফটস্কিল। এই একটা মাত্র স্কিলের কারণে একটা লোগো কেউ ১০০ ডলারে বিক্রি করে আবার কেউ ১ লক্ষ ডলারে বিক্রি করে। নেগোসিয়েশন বিষয়টার সাথে হিউম্যান সাইকোলজি অতপ্রত ভাবে জড়িত। আর বিষয়টা শিখতেও যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। তবে আমি আপনাদেরকে সাজেস্ট করবো এই বিষয়ে নিয়ে আরও পড়াশোনা করতে। কারণ একবার ব্যাপারটা আয়ত্ত করতে পারলে একই কাজ করে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

অদূর ভবিষ্যতেই আপনারা এই বিষয় গুলো নিয়ে আমার করা বিস্তর রিসার্স পেতে যাচ্ছেন একটি বইয়ের মাধ্যমে। বইটা এখনও রাইটিং ফেজেই আছে। বইটির নাম, ফ্রিল্যান্সিং - যেসব কথা কেউ বলে না

 
Share this